1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন
Title :
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

মার্কিন অবরোধে হরমুজ প্রণালিতে ভারতের সমস্যা আরও জটিল হবে?

  • Update Time : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২০ Time View
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াত করা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের কোনো “হামলাকারী জাহাজ” যদি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

এর প্রেক্ষাপটে জানা যায়, পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত United States Central Command (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টা (ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা) থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। তবে তারা এটাও স্পষ্ট করে যে, যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানের বন্দরে যাতায়াত করছে না, তাদের পথ আটকানো হবে না।

এই উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়ে জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলারে দাঁড়ায়, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে চাপ তৈরি হয়েছে। Ireland-এ দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। Australia-তে পরিবহন ও ট্রাকনির্ভর শিল্প বড় ধাক্কার আশঙ্কায় রয়েছে। একইভাবে Germany-ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে কর কমিয়েছে।

এই সংকটের বড় প্রভাব পড়তে পারে India-র ওপর, কারণ দেশটি জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং এর বড় অংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে, যা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারত তার মোট পেট্রোলিয়াম চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে এবং এর একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভোক্তাও।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন দেশটি ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর একটি বড় অংশ এখনও হরমুজ নির্ভর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক Harsh Pant বলেন, ভারতের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আসে, যার অর্ধেকের বেশি হরমুজ হয়ে আসে। ফলে অবরোধ পরিস্থিতি আরও চাপ তৈরি করবে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানির ৫০ শতাংশের বেশি এসেছে মধ্যপ্রাচ্য—বিশেষ করে Iraq, Saudi Arabia এবং United Arab Emirates থেকে। ২০১৯-২০২২ সময়কালে এই নির্ভরতা ৬০ শতাংশেরও বেশি ছিল।

তবে ভারতের সরকারি তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটির ৭০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, ফলে সরবরাহ কিছুটা নিরাপদ রয়েছে।

এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক এবং এলপিজিতে দ্বিতীয়। এই আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। হর্ষ পন্থ জানান, ভারতের এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করা হয়, যার ৯০ শতাংশ হরমুজ হয়ে আসে।

বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদক Qatar ভারতকে সবচেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ করে। দেশটির রাস লাফান গ্যাস ফিল্ড—যাকে “ক্রাউন জুয়েল” বলা হয়—সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং ভারতে শিল্প খাতে এলএনজি সরবরাহ ২০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার গৃহস্থালি ব্যবহার, পরিবহন এবং এলপিজি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ভারত, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর।

এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি ইরানি ট্যাংকার ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। গত সাত বছরে এই প্রথম ইরান থেকে ভারতে তেল পাঠানো হয়েছে, যা আমদানি করেছে Reliance Industries। ভবিষ্যতে আরও তেল আসতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে সারের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার—যেমন ইউরিয়া, পটাশ, অ্যামোনিয়া ও ফসফেট—হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার ব্যবহারকারী দেশ এবং বছরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন টন ইউরিয়া ব্যবহার করে। এই খাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি খাত বড় ঝুঁকিতে পড়বে। হর্ষ পন্থ সতর্ক করে বলেন, এতে কৃষকদের বপন মৌসুমেও প্রভাব পড়তে পারে।

জেনেরিক ওষুধ শিল্পেও এর প্রভাব পড়ছে। পেট্রোকেমিক্যাল থেকে তৈরি মিথানল ও ইথিলিন ওষুধ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য এবং এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতের ফার্মা শিল্প বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে, যার বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।

যুদ্ধের কারণে দুবাইসহ উপসাগরীয় ট্রানজিট রুটগুলোও বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৬.৯ শতাংশে নামানো হয়েছে, যেখানে আগে তা ৭.৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল। আমদানি ব্যয় বাড়ায় রাজস্ব ঘাটতি ও বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই প্রান্তিক সময় লাগবে।

এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে আসা রেমিট্যান্সেও প্রভাব পড়তে পারে। প্রায় ৯০ লাখ ভারতীয় ওই অঞ্চলে কাজ করেন।

সবশেষে প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্র কেন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চায়? বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যেমন এই প্রণালিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও এই পথ নিয়ন্ত্রণ করে চীন, ভারতসহ নির্ভরশীল দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়।

তবে শিপিং বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেনের মতে, বাস্তবে এই অবরোধ সীমিত সংখ্যক জাহাজের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে এবং বড় আকারে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme