সংকটময় পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে দেশে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধাবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না ঘটে, তাহলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ মার্চ জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একইভাবে মার্চ মাসেও জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সে সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সরকার জ্বালানির দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগের এক ব্রিফিংয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ২০২৫ সালের মার্চ এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরবরাহ কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে সেটি বর্তমানের মতো তীব্র সংকট পর্যায়ে পৌঁছেনি। তার মতে, মূলত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, ‘ফুয়েল অ্যাপ’ বা ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প হিসেবে) এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে সাতটি পেট্রোল পাম্পে এটি চালু রয়েছে। যদিও অ্যাপটি এখনও পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারছে না এবং কিছু কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব ত্রুটি দূর করার জন্য কাজ করছে।
ডা. জাহেদ আরও জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি সেদিন সকালে সংসদে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে খুব দ্রুত এই অ্যাপটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অ্যাপটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে জ্বালানি নিতে গিয়ে যে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা অনেকাংশে কমে আসবে।
সবশেষে তিনি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে কারও কোনো গঠনমূলক পরামর্শ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন, যাতে সমন্বিতভাবে এই সংকট উত্তরণ সম্ভব হয়।
Leave a Reply