বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা কর আরোপের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রণালিটি ব্যবহারকারী সব ধরনের জাহাজকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা টোল পরিশোধ করতে হবে, যদিও ঠিক কত টাকা নির্ধারণ করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর বা Islamic Revolutionary Guard Corps–সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের একজন সদস্য এই পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় শুধু টোল আরোপ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজগুলোর জন্য এই প্রণালি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।



একইসঙ্গে, ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলেও সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা কার্যকর করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানায়, নতুন টোল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওমান–এর সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই উদ্যোগকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ—প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস—প্রতিদিন এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে টোল আরোপ করা হলে বা জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিকে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর আগে ইরানের আইনপ্রণেতারা প্রস্তাব করেছিলেন, এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তার বিনিময়ে কর বা টোল দিতে হবে—যেমন বাংলাদেশে যমুনা সেতু বা পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে হলে যানবাহনকে নির্দিষ্ট টোল দিতে হয়।
সার্বিকভাবে, ইরানের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply