সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রবিবার (২৯ মার্চ) জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিদিন অফিস শুরু হওয়ার পর সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বা কর্মসূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা যাবে না, যাতে এই নির্ধারিত সময়সীমা ব্যাহত হয়। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার কমাতে হবে এবং জানালা, দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খুলে রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়েও শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে, যাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
এছাড়া, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় অবশ্যই কক্ষের সব ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম—যেমন লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার—বন্ধ করে যেতে হবে। অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য স্থানে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাতি জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও নিশ্চিত করতে হবে, যেন সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি—লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি—সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে এবং সার্বিকভাবে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী মনোভাব বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি ও সিঁড়ির হাতল নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
Leave a Reply