সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে করণীয় বিষয়ে নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনায় দিবসটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে করণীয় বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে জানাতে আগামী মঙ্গলবার নতুন করে চিঠি দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ও বুধবার—এই দুই কার্যদিবসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গত ৮ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জারি করা এক চিঠিতে দেশের স্কুল, কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনায় বলা হয়, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মরণে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।
একই নির্দেশনায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ এবং ডিসপ্লে প্রদর্শনের আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়াও ২০ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে সুবিধাজনক দিন ও সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে আলোচনা সভা আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি ২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
২৬ মার্চ সকাল ৮টায়, অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের ১৮টি অঞ্চলের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনের আয়োজন করতে হবে।
এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব কর্মসূচি স্থানীয় স্টেডিয়াম বা সুবিধাজনক খোলা স্থানে আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২৬ মার্চ সকাল ৮টায় জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বিভাগীয় কমিশনাররা, ডিআইজি’রা, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
Leave a Reply