বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষকতার যোগ্যতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব পদে নিয়োগ পেতে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ন্যূনতম ১৮ বছর করার বিধান যুক্ত করা হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ইতোমধ্যে আবেদন করা বহু প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত ১৮ বছর করা হলে বর্তমানে আবেদন করা প্রার্থীদের প্রায় অর্ধেকই এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন না। ফলে তাদের আবেদন বাতিল করতে হতে পারে। এ অবস্থায় আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে আবেদন গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা নতুন শর্ত পূরণ করতে পারবেন না তাদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট প্রার্থীদের নিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করার সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদনকারী প্রার্থীদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে দুটি সম্ভাব্য বিষয় সামনে রেখে কাজ চলছে। প্রথমত, ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনের ভিত্তিতেই পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করে আবার আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্তও আসতে পারে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত এক সভায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, খুব দ্রুত এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করা হবে।
এর আগে থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছিল। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বা জুনিয়র শিক্ষকরা এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেলে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। সেই কারণেই অভিজ্ঞতার সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, আগে ১২ বছর ও ১৫ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতার শর্ত থাকায় তুলনামূলক তরুণ শিক্ষকরা বেশি সংখ্যায় আবেদন করেছিলেন। তবে তাদের অনেকেই সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারবেন না—এমন আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাস্তবে এসব পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ শিক্ষকরাই বেশি নিয়োগ পেয়ে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
Leave a Reply