বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও উৎসব ভাতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আপডেট সামনে এসেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ভুলবশত বা অন্য কোনো কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিল বা ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতার বিল ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ড্যাশবোর্ডে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাবমিট করতে পারেনি, তাদের জন্য রয়েছে একই সঙ্গে স্বস্তি ও হতাশার খবর।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিল এখনো ইএফটির ড্যাশবোর্ডে সাবমিট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা দিতে পারেনি, তারা চাইলে এখনো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিল সাবমিট করতে পারবে। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তির সম্ভাবনা আবারও তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ইতোমধ্যে বেতন না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এই সুযোগ তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে একই সঙ্গে একটি খারাপ খবরও রয়েছে। বর্তমানে ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করার অপশন ইএফটি ড্যাশবোর্ডে বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করতে পারেনি, তারা আপাতত নতুন করে সেই বিল সাবমিট করতে পারছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে উৎসব ভাতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আজ দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার মোঃ জহির উদ্দিন জানান, বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিল সাবমিট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হলে সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিল সাবমিট করতে পারেনি, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত করে ইএফটি ড্যাশবোর্ডে বিল সাবমিট করা উচিত। এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, উৎসব ভাতার বিল সাবমিটের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে কোনো শিক্ষক-কর্মচারী উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত না হন।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিল সাবমিট করার সুযোগ অব্যাহত থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি স্বস্তির খবর হলেও উৎসব ভাতার বিল সাবমিট বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এখন সবাই অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
Leave a Reply