1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
Title :
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বর্ধিত উৎসব ভাতা শুভঙ্করের ফাঁকি যা জানাল মাউশি

  • Update Time : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮৭২ Time View
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বর্ধিত উৎসব ভাতা শুভঙ্করের ফাঁকি যা জানাল মাউশি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এই চিঠির পর বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তার অর্থ কি দাঁড়ায় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিন্তু হয়নি অথচ আমরা সবাই ধরে নিয়েছি যে, এই ঈদ হতেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের উৎসব ভাতা বর্ধিত আকারে অর্থাৎ ৬০% হারে পেতে যাচ্ছে। সত্যি বলতে এই যে ৬০ % হারে যে উৎসব ভাতা পাওয়া বিষয়টি এটির বাস্তব কোন ভিত্তি এখনও তৈরি হয় নি। যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে শক্ত দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৬০% হারে পেতে চলেছে। বিয়টির এখনও কোন প্রকার সরকারী ভিত্তি গড়ে উঠেনি।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এমপিওভু্ক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এই বর্ধিত ১০% উৎসব ভাতার ব্যাপারে মাউশির ইএমআইএসসেলের একজন প্রোগামার মোঃ জহির উদ্দিন সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি জানান যে, এই বিষয়টির এখনও কোন সরকারী আদেশ আসে নাই। আলাপ আলোচনা যা তা শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ। এবং অবস্থার দৃষ্টান্তে যা মনে হচ্ছে তাতে করে এই ঈদে এই বর্ধিত উৎসব ভাতা পাওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নাই।

আর শিক্ষা মন্ত্রীর কথাও যদি ধরা যায় তাহলেও তো বলতে হয় তিনি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে। সেখানে কিন্তু তিনি উল্লেখ করে নাই যে, এই ঈদ হতেই শিক্ষক কর্মচারী পাবে না আগামী ঈদ হতে পাবে। পলিট্রিক্স এখানেই আমরা সরল মনে সকলেই ধরে নিলাম আমরা পেয়ে গেছি। শুভঙ্করের ফাঁকিটা এখানেই।

তবে প্রস্তাবটি আলোচনায় আসার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন জোরালোভাবে উঠেছে—বর্ধিত এই উৎসব ভাতা তারা ঠিক কবে থেকে পাবেন। কারণ ইতোমধ্যেই আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিল জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।

বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও জানিয়েছে, চলতি ঈদুল ফিতরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়তি ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। কারণ ইতোমধ্যে যেসব বিল জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে আগের নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হিসেবেই উৎসব ভাতা ধরা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে এখনও অনেক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অসম্পন্ন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে হবে অর্থ ছাড়ের অনুমতি মিলতে হবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সরকারি পরিপত্র জারি করতে হবে। সেই পরিপত্র জারির পরই শিক্ষক-কর্মচারীরা কেবল মাত্র অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বর্ধিত উৎসব ভাতা পাওয়ার পথ সুগম হবে। বর্তমানে হাতে যে সময় রয়েছে তাতে করে এই কাজ গুলো ঈদের পূর্বে শেষ করা একপ্রকার অসম্ভব। বিষয়টি অনেকটা এমন চোরকে বললাম চুরি করতে গাহর্স্থ্যকে বললাম সাবধান হতে। বাকিটা আপনারা বুঝে নিবেন।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত বুধবার ছিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতার বিল জমা দেওয়ার শেষ দিন। সে অনুযায়ী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতার বিল জমা দিয়েছে। ফলে আসন্ন ঈদুল ফিতরে বাড়তি ১০ শতাংশ ভাতা পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর মার্চ মাসের বেতনের সঙ্গে ওই অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয় করা হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো উৎসব ভাতা বকেয়া করে দেওযার তেমন কোন রীতি আমাদের দেশ নেই। এখন বর্তমান বাস্তবতা হলো এই যে, আগামী ঈদুল আজহা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাওয়ার আশায় দিন গোনা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবসংবলিত একটি ডিও লেটার অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে তাদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা সেবার সার্বিক মান উন্নয়ন করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত সময়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নের পরিবর্তে বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো খাতে তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষা খাতে বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক অবস্থানে বৈষম্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে বাজেটের আনুপাতিক বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ডিও লেটারে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো হলে একদিকে যেমন শিক্ষার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে এবং তারা আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একইসঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্যও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে সরকার মনে করে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৫১ জন। বর্তমানে তারা সবাই মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার মনে করে। সে কারণেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিও লেটারে হিসাব দিয়ে বলা হয়েছে, উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। একইভাবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বিভাগ মিলিয়ে বছরে মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হবে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি এতে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ঘটবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবশেষে ডিও লেটারে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এই যে বিষয়গুলোর অবতারণা করা হয়েছে না এই সবগুলো বিষয় শুধুমাত্র বলার জন্য ই বলা। এছাড়া অন্য কিছু নয়। তবে আফসোস বর্তমান এই রাজনেতিক সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে এই প্রহসনটি না করলেও পারত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme