মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রম সম্পন্ন করার একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বদলি প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাউশি মাঠপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়, যাতে বদলি কার্যক্রমের জন্য সঠিক ও আপডেটড ডাটাবেস ব্যবহার করা যায়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল থেকে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বিস্তারিত ডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে ইনপুট হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, যেখানে সফটওয়্যারটির সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার পরীক্ষায় সফলতা অর্জিত হলে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই এই সফটওয়্যারের ডেমো চূড়ান্ত করা হতে পারে। ডেমো চূড়ান্ত হলে মাঠপর্যায় থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। তথ্য সংগ্রহের পর শিক্ষকেরা অনলাইনের মাধ্যমে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবে।
এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মাউশি এখনও বদলি সফটওয়্যার রেডি করতে পারেনি। সফটওয়্যার প্রস্তুত হলে তারা বদলি কার্যক্রম শুরু করবে।”
তথ্য অনুযায়ী, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগের কোনো বদলির সুযোগ ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেয় এবং এজন্য একটি বিশেষ বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। তবে সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, শিক্ষকদের একাংশের রিট, নীতিমালা সংশোধনসহ একাধিক কারণে এখনও বদলি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। যদিও সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে, সফটওয়্যার তৈরি না হওয়ায় এই কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
সারসংক্ষেপে, মাউশি এখন সফটওয়্যার তৈরির ধাপে রয়েছে এবং এর সফলতার পরেই দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম প্রায় নিশ্চিতভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
Leave a Reply