বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হবে মোট ২৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদন পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শিক্ষকদের উৎসব ভাতা একবারে বড় পরিসরে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা তৈরি করে ডিও লেটার প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই বর্ধিত হারে উৎসব ভাতা কার্যকর করা সম্ভব হবে। অর্থ ছাড়ের গতি যত দ্রুত হবে, বাস্তবায়নও তত দ্রুত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। এই ভাতা পরিশোধ করতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬০ শতাংশ করা হলে সরকারের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ৭১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। অর্থাৎ নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ২৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
সূত্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়াতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ৯৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এই দুই খাত মিলিয়েই মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরবর্তী প্রশাসনিক ধাপগুলো সম্পন্ন করা হবে।
Leave a Reply