1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
Title :
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি

এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিয়োগ নিয়ে শঙ্কা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫৮ Time View
এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিয়োগ নিয়ে শঙ্কা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধানসহ শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার মনে করছে, কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মুক্ত হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষকদের একটি অংশের আপত্তি এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে অস্থিরতার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ: স্বচ্ছতার নতুন দিগন্ত?

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের বড় একটি অংশ বলছেন, এতদিন ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সহকারী প্রধান নিয়োগের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতো। এতে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পেত। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।

এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা আয়োজন করে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশ করা হলে—

  • প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন,
  • নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে,
  • প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হবে,
  • আর্থিক অনিয়ম কমবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতিষ্ঠান প্রধান পদটি শুধু প্রশাসনিক নয়; এটি শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই এ পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক আশঙ্কা ও বিরোধিতা

গত রবিবার শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ-এর সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। সেখানে জোটের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তিনি পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বহাল রাখার আহ্বান জানান।

তার অভিযোগ, গত ১৭ বছর এনটিআরসিএ আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে; ফলে এখনো একই প্রভাব বজায় থাকতে পারে। যদিও পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ হলে দলীয় প্রভাব কীভাবে কার্যকর হবে—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

শিক্ষক সমাজের ভেতরের বিভাজন

অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নেওয়া ভালো সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। তার মতে, নিয়োগ কমিটির হাতে বিষয়টি ফিরে গেলে “কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য” শুরু হতে পারে। এমনকি সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

এতে স্পষ্ট, শিক্ষক সমাজের মধ্যেই দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে—
একপক্ষ কেন্দ্রীয়, পরীক্ষাভিত্তিক নিয়োগকে স্বাগত জানাচ্ছে;
অন্যপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় আগের পদ্ধতি বজায় রাখতে চাচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। তবে যে দিকেই সিদ্ধান্ত যাক, এটি স্পষ্ট—বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ পদ্ধতি শুধু প্রশাসনিক প্রশ্ন নয়; এটি দেশের শিক্ষার মান, স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

যদি সত্যিই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা যায়, তবে তা হবে শিক্ষা খাতে একটি কাঙ্ক্ষিত সংস্কার। আর যদি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তিত হয়, তাহলে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এখন সবার নজর সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে—মেধা নাকি প্রভাব, কোনটি প্রাধান্য পাবে?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme