বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত পৌনে চার লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ছাড়ের প্রস্তাব পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিল প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে বেতন-ভাতা যথাসময়ে শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যায়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-এর এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একটি সূত্র জানায়, সারা দেশের প্রায় ১৯ হাজার এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ থেকে অনলাইনে বিল সাবমিটের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ছাড়াও বকেয়া বেতন, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য প্রাপ্য বিল একত্রিত করে যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখায় পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সম্পন্ন হলে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র জারি করা হবে। পরে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের (এজি অফিস) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রেরণ করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিলের তথ্য পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই ও সমন্বয় সম্পন্ন হলেই তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের বিষয়টি শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সম্পন্ন হবে।
জানা গেছে, প্রতি মাসেই প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বিল দাখিল করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিল জমা দেওয়ার ফলে তথ্য যাচাই, সংশোধন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া এখন আগের তুলনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্যভ্রান্তি বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র থাকলে তা অনলাইনেই সংশোধনের সুযোগ থাকে, ফলে বিল আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এসেছে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ফলে মধ্যবর্তী জটিলতা কমেছে এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে পৌঁছে যাবে।
Leave a Reply