স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্যগত ভুলের কারণে সৃষ্ট বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধে আবারও বিল সাবমিটের সুযোগ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাস পর্যন্ত এমপিওর বকেয়া বিল দ্রুত সাবমিট করতে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বলা হয়েছে। সোমবার অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগেও শিক্ষকদের বকেয়া বিল সাবমিটের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১ হাজার ৩৭৯ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৬৬৫ জন বিল সাবমিট করেন। ফলে বাকি শিক্ষকদের সুবিধার্থে আবারও বিল সাবমিটের অপশন চালু রাখা হয়েছে। এবার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই—প্রতিষ্ঠান প্রধানরা যেকোনো সময় বিল সাবমিট করতে পারবেন। একইসঙ্গে বকেয়া উৎসব ভাতার বিলও সাবমিট করা যাবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিদপ্তরাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত জনবলের বেতন ডিসেম্বর-২০২৪ থেকে জুলাই-২০২৫ পর্যন্ত ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল জনবলের এনআইডি ও ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং তা iBAS++ (আইবাস ডাবল প্লাস) সিস্টেমে যাচাই করা হয়। যাচাই প্রক্রিয়ায় যেসব তথ্য ইনভ্যালিড হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে বেতন সচল হয়েছে, তাদের বকেয়া বেতন প্রদানের জন্য বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত করা হয়েছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট কিছু মাসের বেতন বা উৎসব ভাতা বকেয়া রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তাঁর এমপিও সংক্রান্ত নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করতে হবে। এরপর বিল সাবমিট অপশন থেকে বকেয়া মাসগুলোর বিল পৃথকভাবে সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিলকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ প্রেরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইএফটি সিস্টেম চালুর পর ডিসেম্বর-২০২৪ থেকে জুলাই-২০২৫ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে (তথ্যগত ভুলের কারণে সৃষ্ট বকেয়া) যদি কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অনলাইন এমপিও আবেদনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে বিল সাবমিটের সময় “পেমেন্ট নেই” অপশন নির্বাচন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক বকেয়া প্রাপ্য শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য পৃথকভাবে বিধিমোতাবেক এমপিওর অর্থ নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এমপিওর অর্থ সরাসরি ইএফটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
এছাড়া, কোনো শিক্ষক-কর্মচারী মৃত্যুবরণ বা পদত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট মাসে তার প্রাপ্যতা নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হবে। সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি, স্টপ পেমেন্ট, সনদ জালিয়াতি বা অন্য কোনো কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণ বেতন কর্তনের প্রয়োজন হলে সেটিও বিল সাবমিট অপশনে উল্লেখ করতে হবে।
সবশেষে জানানো হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিলকৃত তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। ভুল তথ্যের কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর অর্থ প্রেরণ না হলে বা অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই বহন করতে হবে।
Leave a Reply