বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত স্বয়ংক্রিয় বদলি কার্যক্রম আবারও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর অবশেষে বদলি কার্যক্রম ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই সফটওয়্যারটির ডেমো পুনরায় প্রদর্শন করা হবে। ডেমো সফল হলে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে দ্রুতই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বড় একটি অংশ নিয়োগ পেয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সুপারিশের মাধ্যমে। কিন্তু নিয়োগের পর দীর্ঘদিন ধরে তাদের জন্য বদলির কোনো স্বয়ংক্রিয় বা নিয়মিত ব্যবস্থা ছিল না। শুরুতে প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা নতুন গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজারো শিক্ষক কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এই বাস্তবতায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বদলি চালুর দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং সফটওয়্যারভিত্তিক একটি স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেয়।
মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, বদলি সফটওয়্যারের ডেমো গত সপ্তাহেই চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে কারিগরি প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডেমো প্রদর্শনীর সভার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি; তবে খুব শিগগিরই তারিখ নির্ধারণ হতে পারে।
সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় পুনরায় ডেমো প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেমো সফল হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রণীত ও সংশোধিত বদলি নীতিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—
এই পদ্ধতি চালু হলে বদলি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, তদবির বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বদলি নীতিমালা জারি হয়েছে, তবুও কয়েকটি কারণে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি—
ফলে একাধিকবার সময় নির্ধারণ হলেও বাস্তবে বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সফটওয়্যারটি—
এর ফলে শিক্ষকরা ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন এবং পুরো প্রক্রিয়া ট্র্যাক করতে পারবেন।
দেশে প্রায় কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও পারিবারিক, স্বাস্থ্যগত বা পেশাগত কারণে বদলির প্রয়োজন অনুভব করেন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের জন্য এই সফটওয়্যার একটি বড় স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
শিক্ষকদের প্রত্যাশা—
যদি চলতি সপ্তাহেই ডেমো সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং অনুমোদন মেলে, তাহলে খুব শিগগিরই মাউশি বদলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। এতে করে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক সংস্কারের যুগে এই উদ্যোগ শুধু শিক্ষকদের জন্যই নয়, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়—ডেমো কতটা সফল হয় এবং কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয় এই বহুল প্রতীক্ষিত স্বয়ংক্রিয় বদলি কার্যক্রম।
Leave a Reply