বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি চালুর লক্ষ্যে তৈরি সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শন নিয়ে ডাকা সভা শেষ হয়েছে। তবে প্রদর্শিত সফটওয়্যার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসন্তোষ থাকায় আবারও ডেমো প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বদলি কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণের ইঙ্গিত মিলেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান, যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. হেলালুজ্জামান সরকার, উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-এর উপপরিচালক (মাধ্যমিক-২) মো. ইউনুছ ফারুকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার মতে, টেলিটক যে সফটওয়্যারটি ডেমো হিসেবে উপস্থাপন করেছে, সেটি এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে—বিশেষ করে আবেদন যাচাই, শূন্যপদ নির্ধারণ, অগ্রাধিকার তালিকা (সিনিয়রিটি/ইনডেক্স), স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং আপিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ অবস্থায় সফটওয়্যার চালু করা হলে শিক্ষকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে এবং নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ফলে সফটওয়্যার আরও নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পুনরায় ডেমো প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নতুন ডেমো সন্তোষজনক হলে সেটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
এনটিআরসিএ-এর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের দীর্ঘদিন ধরে বদলির কোনো কার্যকর সুযোগ ছিল না। তারা শুধুমাত্র প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর বদলি সুবিধা চালুর দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন জোরদার হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করে। তবে—
এসব কারণে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেও সফটওয়্যার প্রস্তুত না থাকায় বদলি কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।
স্বয়ংক্রিয় বদলি সফটওয়্যার চালু হলে সম্ভাব্য যেসব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে—
তবে সফটওয়্যার নির্ভুল না হলে বিপরীত ফলও হতে পারে—ভুল পোস্টিং, ডেটা ত্রুটি, কিংবা অগ্রাধিকার নির্ধারণে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে সব নজর আগামী সপ্তাহের পুনরায় ডেমো প্রদর্শনের দিকে। যদি সফটওয়্যার চূড়ান্ত অনুমোদন পায়, তাহলে বহু প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অন্যথায় আবারও বিলম্বের শঙ্কা রয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর বদলি ব্যবস্থার অপেক্ষায় আছেন। এখন দেখার বিষয়—টেলিটকের পরিমার্জিত সফটওয়্যার সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে এবং শিক্ষা প্রশাসন কত দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারে।
Leave a Reply