আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশালের একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে একটি প্রাথমিক কাঠামো বা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে রেখে যেতে পারে। তবে সেই কাঠামোর বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে পে-স্কেল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে যাবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, আর মাত্র এক মাস পরই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে সরকারের সব মনোযোগ নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে নিবদ্ধ। নির্বাচন শেষে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের কাজ ও সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লে ছেড়া-ফাটা নোটের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে যদি কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে নগদবিহীন লেনদেন আরও সম্প্রসারিত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বাড়বে।
এ সময় দেশের আমদানিনীতিকে জটিল উল্লেখ করে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো আমদানি করা সম্ভব হয় না। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয় এবং পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply