1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
Title :
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতকরা হারে বাড়িভাড়া নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বক্তব্য হতাশাজনক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত

  • Update Time : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩৬ Time View
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতকরা হারে বাড়িভাড়া নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বক্তব্য হতাশাজনক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন কেন জানি সকল সময় সকল বিষয়ে সরল বিষয়ে চালিত হয় না। যখনই সামনে নতুন কোন আশার সঞ্চার হয় তখনই চেনা মুখগুলো অচেনা প্রতিপক্ষের মত আচরণ করে। সম্প্রতি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতকরা হারে বাড়িভাড়ার প্রস্তাব পাঠায় তবে অর্থ মন্ত্রণালয় তা শতভাগ নিশ্চিতভাবে বাতিল করবে। আশ্চর্যের বিষয়, তাদের এই বক্তব্য কোনো সরকারি নথি, প্রজ্ঞাপন বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং তারা উল্লেখ করেছে—“একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন এক কর্মকর্তা” নাকি এমন মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি অনুসারে এ ধরনের অস্পষ্ট ও অনির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশন করা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বটে।

শিক্ষকদের মৌলিক প্রশ্ন হলো—যদি সত্যিই শতকরা হারে বাড়িভাড়া দেয়া আইনগতভাবে অসম্ভব হয়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে শতকরা হারে উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন? একই রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরে যখন একটি ভাতা শতকরা হারে দেয়া যায়, তখন অন্য ভাতা কেন দেয়া যাবে না? দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের এই বক্তব্য তাই পরস্পরবিরোধী ও যুক্তিহীন।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—তারা কোথায় পেল সেই আইন বা বিধান, যেখানে বলা আছে বাড়িভাড়া শতকরা হারে দেয়া যাবে না? আমাদের জানা মতে, এমন কোনো আইন নেই। বরং ইতিহাসে দেখা যায়, সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বদা শতকরা হারে বাড়িভাড়া ভাতা পান। তাহলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কেন সেই ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন? দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস কি তবে সচেতনভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে?

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস বলছে—যেহেতু এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতন নয়, বরং ভাতা পান, তাই তাদের শতকরা হারে বাড়িভাড়া দেয়ার কোনো বিধান নেই। কিন্তু এখানে মৌলিক বিষয় হলো—ভাতা হোক বা বেতন হোক, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে দুটোই “রাজস্ব ব্যয়” হিসেবে গণ্য হয়। ভাতার ক্ষেত্রেও সরকার চাইলে হার নির্ধারণ করতে পারে।

উদাহরণ: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উৎসব ভাতাবৈশাখী ভাতা বেতনের শতকরা হিসেবে পান। তাহলে কেন বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে শতকরা হার প্রযোজ্য হবে না? একই কাঠামোর ভেতরে একটি ভাতা শতকরা হিসেবে দেয়া যায়, অন্যটি দেয়া যাবে না—এমন দ্বিমুখী যুক্তি কোনোভাবেই টেকসই নয়।

সরকারি চাকরিজীবীরা বেতনের সাথে শতকরা হারে বাড়িভাড়া পান। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই ভাতা পান। তাহলে একই অর্থনৈতিক কাঠামোর ভেতরে একজন শিক্ষককে বলা হলো—“তুমি যেহেতু ভাতা পাচ্ছো, তাই তোমার জন্য শতকরা বাড়িভাড়া নেই”—এটি সরাসরি বৈষম্য সৃষ্টি করে। সংবিধানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বৈষম্য অযৌক্তিক।

বিগত সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা (যেমন উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, চিকিৎসা ভাতা) শতকরা হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এরকম একটি দৃষ্টান্ত সরকারের নথিতে বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের দাবি—“শতকরা হারে বাড়িভাড়া দেয়ার কোনো বিধান নেই”—এটা সরাসরি প্রজ্ঞাপনের সাথেই সাংঘর্ষিক।

কোন ভাতা নির্দিষ্ট অঙ্কে দেয়া হবে আর কোন ভাতা শতকরা হারে দেয়া হবে, সেটি নীতি নির্ধারণের বিষয়। কোনো জায়গায় “আইন” করে বলা নেই যে, ভাতা শতকরা হারে দেয়া যাবে না। অর্থাৎ এখানে কোনো আইনগত বাধা নেই, শুধু সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন।

বাস্তবে ভাড়া সবসময় বাড়ে—ঢাকা শহরে হোক বা জেলা শহরে। স্থির হারে দেয়া ভাতা জীবনযাত্রার খরচের সাথে কোনোভাবেই খাপ খায় না। এ জন্যই শতকরা হারে ভাতা দেওয়ার যৌক্তিকতা বহুগুণে বেড়ে যায়। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস এই বাস্তবতাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বক্তব্য যুক্তিহীন, কারণ—

  • ভাতার ক্ষেত্রেও শতকরা হারে প্রণোদনা দেয়ার নজির আছে।
  • সরকারি চাকরিজীবীদের মতো একই কাঠামো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
  • কোনো আইনেই বলা নেই যে, ভাতা শতকরা হারে দেয়া যাবে না।

তাই বলা যায়—“শিক্ষকরা যেহেতু ভাতা পান, তাই শতকরা বাড়িভাড়া দেয়া যাবে না”—এমন বক্তব্য মোটেও যৌক্তিক নয়, বরং এটি বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতকরা হারে বাড়িভাড়া একটি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় বিষয়। প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এ দাবি নিয়ে সোচ্চার। এই প্রেক্ষাপটে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের মতো একটি প্রচারমাধ্যম যদি বলে, প্রস্তাব দিলেই তা বাতিল হয়ে যাবে—তাহলে সেটি নিছক মতামত নয়, বরং লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের মনোবল ভেঙে দেয়ার অপচেষ্টা। এটি কেবল হতাশা ছড়ায় না, আন্দোলনের শক্তিকেও দুর্বল করে।

আসলে এটিই প্রথম নয়। অতীতে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস শিক্ষকদের সর্বজনীন বদলির বিষয়ে একটি শিক্ষক সংগঠনের নেতার সাথে সুর মিলিয়ে প্রকাশ্যে সর্বজনীন বদলির বিরোধিতা করেছে। ফলে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা বারবার শিক্ষকদের ন্যায্য স্বার্থ ও আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যম যদি ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক সমাজকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করার কাজ করে, তাহলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

এখন প্রশ্ন হলো—দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের আসল লক্ষ্য কী? তারা কি সচেতনভাবে সরকারকে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি থেকে দূরে রাখতে চায়? নাকি তারা শিক্ষকদের ঐক্য ও আন্দোলনকে ভাঙতে চায়? যেকোনো উত্তরই হোক, সত্য হলো—এমন বিভ্রান্তিকর ও হতাশাজনক বক্তব্য দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

শিক্ষকদের দাবি একেবারেই যৌক্তিক। যেমনভাবে শতকরা হারে উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা দেয়া সম্ভব হয়েছে, তেমনি শতকরা হারে বাড়িভাড়াও দেয়া সম্ভব। এটি শুধু আর্থিক দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধি এবং শিক্ষক সমাজের বাস্তব সমস্যার সাথেও সরাসরি সম্পর্কিত। শিক্ষকরা শহর ও গ্রামে সমানভাবে উচ্চ ভাড়া গুনে বসবাস করছেন। অথচ তাদের ভাতা স্থির থাকায় বাস্তবতার সাথে কোনো মিল থাকছে না। এ অবস্থায় শতকরা হারে বাড়িভাড়া ভাতা তাদের জীবনমান টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষে বলা যায়—দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বক্তব্য একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত, যা হতাশা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য সাধন করে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করবে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

শিক্ষক সমাজের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং একটি সুষম ও ন্যায্য ব্যবস্থার দাবি। তাই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় হতাশ না হয়ে, বরং আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme