শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রধান শিক্ষকদের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো ওয়েবসাইট চালু করেনি, তারা আগামী তিন (০৩) কার্যদিবসের মধ্যে ওয়েবসাইট না থাকার নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে এবং এ সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তার বিস্তারিত প্রতিবেদন ইমেইলের মাধ্যমে (dd.hrm.dshe@gmail.com) প্রেরণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) মাউশি থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল পত্র জারি করা হয়। উক্ত চিঠিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সব আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছেও প্রেরিত হয়েছে। এবিষয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৪-২৫’ অনুসারে অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে হালনাগাদকৃত সেবা প্রতিশ্রুতি নিজ নিজ ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং তা আপলোড করে দৃশ্যমান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তব চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট তৈরি করেনি, যা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি গুরুতর অনিয়ম।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মাউশি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অবহেলা মনে করে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কী ধরণের পরিকল্পনা বা কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে, তাও স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা অপরিহার্য। কারণ, ওয়েবসাইট না থাকায় অনেক সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হন, যার ফলে সেবা গ্রহণে সমস্যা তৈরি হয়। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তাই এই নির্দেশনার মাধ্যমে ওয়েবসাইট চালুর ক্ষেত্রে গতি আনতে চাচ্ছে মাউশি।
Leave a Reply