জুলাই আন্দোলন স্মরণে ১৮ জুলাই ১ জিবি বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেবে সরকার
জুলাই আন্দোলনের স্মরণে একটি প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ১৮ জুলাই দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিনামূল্যে ১ জিবি ইন্টারনেট ডেটা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ নির্দেশনা ইতোমধ্যে মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিনামূল্যে প্রাপ্ত ডেটাটির মেয়াদ থাকবে পাঁচ দিন।
এই উদ্যোগটি অনুমোদিত হয়েছে ৮ জুলাই বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। এরপর ৯ জুলাই অপারেটরদের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা পাঠানো হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও স্মৃতি রক্ষায় এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
বিটিআরসি অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে, এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের আগাম জানাতে হবে যে তারা ১৮ জুলাই এই বিশেষ সুবিধা পাবেন। কমিশন চাইছে, অপারেটররা যেন পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করে এবং দিবসটি যথাযথভাবে পালন করে।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তৈমুর রহমান জানান, “জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রাখতে আমরা আন্তরিক। ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের ওপর জোর দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা বিটিআরসির চিঠিটি পর্যালোচনা করছি এবং খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাব।”
তবে কিছু মোবাইল অপারেটর এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক অপারেটর কর্মকর্তা জানান, “গ্রাহকদের যে ডেটা দেওয়া হবে তার ওপর ট্যাক্স দিতে হবে, এমন অবস্থায় সরকারের উচিত এ বিষয়ে করছাড়ের নীতিমালা স্পষ্ট করা। পাশাপাশি, অপারেটরদের যেসব খরচ (যেমন: ট্রান্সমিশন ও ডেলিভারি) বহন করতে হবে, তা নিয়েও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। বিটিআরসিকে নিশ্চিত করতে হবে যে অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররাও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করেছিল। সেই ঘটনার পটভূমিতে এবারের এই পদক্ষেপটিকে অনেকেই প্রতীকী স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে ডিজিটাল অধিকারের গুরুত্ব এবং তথ্যপ্রবাহের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হলো।
Leave a Reply