আসন্ন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ও নূন্যতম কর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে
আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি পেলেও, নূন্যতম করের হার বাড়ানোর যে প্রস্তাবনা এসেছে তা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী শ্রেণি—এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আর্থিকভাবে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার কথা ভাবা হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে একইসাথে নূন্যতম করের হার ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে, যা কার্যত এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ চাকরিজীবী শ্রেণির জন্য বাড়তি বোঝা তৈরি করবে।
এই কর হার দেশের সকল আয়ের মানুষের জন্য প্রযোজ্য—চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ সকল শ্রেণির নাগরিক এর আওতায় পড়বেন। এটি কেবলমাত্র এমপিওভুক্ত শিক্ষক, চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, বরং সকল আয়ের উৎসসম্পন্ন নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নূন্যতম করের হার বৃদ্ধির ফলে চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন। কারণ তাদের আয় নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছভাবে নিরূপণযোগ্য, যেখানে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে আয় গোপন করতে বেশি সক্ষম। এর ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে, বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, এ পরিবর্তনের ফলে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষক করের আওতায় না পড়লেও, যাদের বেতন স্কেল ১৬ হাজার টাকা, তাদের জন্য ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। আর যেসব শিক্ষকের বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা এবং যাদের একমাত্র আয়ের উৎস শিক্ষকতা, তারা আগে ৩ হাজার টাকা নূন্যতম কর প্রদান করতেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে এখন সেই পরিমাণ বেড়ে ৫ হাজার টাকা হতে যাচ্ছে, যা তাদের উপর আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। এই পরিবর্তনকে অনেক শিক্ষকই ‘অযৌক্তিক চাপ’ হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। তাদের উপর এমন অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো কি ন্যায্য? শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের কথা সরকার বারবার বললেও, কর কাঠামোর এই পরিবর্তন তাদের জন্য আর্থিকভাবে আরও সংকট তৈরি করতে পারে। বরং শিক্ষা খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য কর নীতিতে বিশেষ ছাড় বা নীতিগত সমন্বয়ের কথা ভাবা উচিত।
বাজেটের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণ ন্যায়সঙ্গত হলেও, তা যেন কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই স্বীকৃতি, বেতন, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে করের বাড়তি চাপ তাদের মনোবল ও পেশাগত নিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সময় এসেছে, নীতিনির্ধারকদের এই বিষয়ে আরও সহানুভূতির সঙ্গে চিন্তা করার।
Leave a Reply