ইসরায়েল-ইয়েমেন সংঘাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকট নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় হুতি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী নিহত হওয়া শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং এর কূটনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই সংঘাত এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হুতিদের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোনের ব্যবহার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
হুতিদের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা গাজার প্রতি সমর্থন থেকে পিছু হটবে না। এ কারণে ‘প্যালেস্টাইন-২’ নামের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রপথে আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন সময়ে আরও ভয়াবহ হামলা হতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও তাদের প্রতিশোধপরায়ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ইয়েমেন থেকে পাঠানো ড্রোন নেগেভ অঞ্চলের রামোন বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ ঘটানো এই সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।
তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উত্তেজনা সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত সীমিত। ইয়েমেন বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তুলতে পারে, যা হুতিদের জন্য বিপজ্জনক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি এখন ইউরেশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে, যেখানে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য জোট ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ততটা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না।
অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি হুতিদের হামলা ইসরায়েলকে পর্যাপ্তভাবে চাপে ফেলে, তবে ইসরায়েল সরাসরি ইরানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। এতে নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই সংঘাত অন্যান্য রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সীমিত।
হুতিদের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। দেশটির ভেতরে আঞ্চলিক সমর্থনপুষ্ট বিরোধী শক্তি সক্রিয়, আর তাদের বিরুদ্ধে হুতিদের সহিংস অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলতে পারে। এ ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপই হয়তো বিস্তৃত সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইয়েমেন-ইসরায়েল সংঘাত বর্তমানে সীমিত যুদ্ধ ও শক্তি প্রদর্শনের মধ্যেই আবদ্ধ থাকলেও এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত। রেড সি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল।
Leave a Reply