বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা ও সুবিধা পান, সেখানে বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাপ্ত ভাতা নগণ্য। বর্তমানে তারা মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান, যা বর্তমান জীবনযাত্রা ও ব্যয়ের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতকরা হারে বাড়িভাড়া ভাতা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) প্রেরণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা শতকরা হারে প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আর্থিক ব্যয়-সংশ্লেষ টেবিল তৈরি করতে হবে। সেখানে শতকরা ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হবে, তবে তা ৩ হাজার টাকার নিচে হবে না। আবার শতকরা ১৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ হারে ভাতা নির্ধারণ করা হলে তা ন্যূনতম ২ হাজার টাকার নিচে নামানো যাবে না।
এ ব্যয় বিবরণী মাসিক ও বাৎসরিক ভিত্তিতে প্রস্তুত করতে হবে এবং স্ল্যাব বা টেবিল আকারে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাউশিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ আর্থিক বিশ্লেষণ প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া অগ্রসর হতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আগে বছরে ২৫ শতাংশ হারে বছরে দুইটি উৎসব ভাতা পেলেও মে মাসে বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করা হয়। এর বাইরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী উৎসব ভাতা পান। তবে আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুত্রে জানা গিয়েছে যে, আগামী উৎসবের পূর্বেই শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়েই ৭৫% উৎসব ভাতা পাবে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply