বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালার ১২.২ নম্বর বিধি ও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিক্ষক বদলিকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের আগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যমান বা ভবিষ্যতের বদলি নীতিমালার অধীনে সমান শর্তে বদলির সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তাও রুলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার (১০ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। এ রুলের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওপর বর্তায়, এবং তারা ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, উচ্চ আদালতের এই রুলের কারণে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, আদালত এখনো কোনো সরাসরি নির্দেশনা দেননি, কেবল রুল জারি করেছেন, যা মূলত আইনি ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রক্রিয়া। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং এতে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।
মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন জানান, হাইকোর্টের রুল নিয়ে মাউশির সরাসরি কোনো কার্যক্রম নেই। তারা কেবল সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “রুলের কারণে বদলি থমকে যাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালতে রুলের জবাব দেবেন, আর আমরা আমাদের নির্ধারিত কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। বদলি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না।”
Leave a Reply