হুবহু বিশদ আকারে পুনর্লিখন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, আগামী আগস্ট মাস থেকে দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শনিবারেও খোলা রাখা হবে। অর্থাৎ সাপ্তাহিক ছুটি একদিন কমিয়ে শিক্ষার্থীদের শনিবারও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে—এমন দাবি করে একটি বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপ ও পাতায়। কিন্তু এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্য তাদের নজরে এসেছে। তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার এখনো নেয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়নি। তাই ফেসবুকে প্রচারিত এই তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা আরও জানিয়েছে, যদি এ জাতীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা নির্ভরযোগ্য সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার, ২৮ জুলাই, মাউশির উপপরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী “দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস”কে বলেন, “আগস্ট মাস থেকে সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নেয়নি।” তিনি আরও বলেন, “কে বা কারা এই ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।”
উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে পাঁচদিন ক্লাস নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থেকে শনিবার অতিরিক্ত ক্লাসের সম্ভাবনা নিয়ে অস্থায়ী আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেটি শুধু প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা জারি হয়নি।
এদিকে, ফেসবুকে শনিবার স্কুল খোলা রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সরকারি অফিস যদি দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করে, তাহলে শিক্ষকদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাদের দাবি, দুইদিনের সাপ্তাহিক ছুটি মানসিক প্রশান্তি ও প্রস্তুতির জন্য জরুরি এবং সেটিকে বাতিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি থেকে পাওয়া বক্তব্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, শনিবার স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে যেসব তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো নিছক গুজব এবং এর পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বাস্তবতা নেই।
Leave a Reply