বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রতিমাসেই বেতন প্রদানে বিলম্ব করে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবারই মাউশি আশ্বাস দেয় যে, আগামী মাস থেকে সময়মতো বেতন প্রদান করা হবে, কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না।
সরকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে বেতন প্রদান শুরু করলেও, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তথ্যগত অসঙ্গতি, যেমন নামের বানান, জন্মতারিখ, এনআইডি নম্বর এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্যের অমিলের কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। মাউশি দাবি করে যে, এসব তথ্যগত ভুল শিক্ষকদের দায়িত্ব, কিন্তু শিক্ষকরা প্রতিবছরই ইএমআইএস সেলে আপডেট তথ্য প্রদান করে থাকেন। যদি তথ্যগত ভুল থাকতো, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এই বিলম্বের ফলে শিক্ষকরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং তাদের ঈদ উৎসবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বেতন না পাওয়ার কারণে মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকের মতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটির বাস্তবায়নের যে জটিলতা তা মাউশি অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করেছে। যা দুইটি কারণে হতে পারে এক মাউশির অনভিজ্ঞতা দুই মাউশির অনিচ্ছা।
সম্প্রতি সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ঈদুল আজহা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ২২৯ কোটি টাকার সংস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। শুধুমাত্র প্রায় ৬৫ কোটি টাকার সংস্থান করা সম্ভব হয়েছে, বাকি অর্থ অন্য কোনো প্রকল্প থেকে স্থানান্তর করতে হতে পারে। এই বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে, তারপর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মাউশির কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদানে বিলম্বের অন্যতম কারণ। তাদের মধ্যে অনেকেই ইএফটি সিস্টেম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী নন। ফলে, শিক্ষকরা সময়মতো বেতন ও ভাতা না পেয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মাউশির উচিত ছিল তথ্যগত ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করে বেতন প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা। মাউশি তা না করে মাউশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের তাদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেছে। যার ফলে তৈরি হয়েছে শিক্ষক কর্মচারী ও মাউশির অমানবিক দুরুত্ব যা অবশ্যই কাম্য নয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা জরুরি। সরকার ও মাউশির উচিত ইএফটি সিস্টেমের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং সময়মতো বেতন ও ভাতা প্রদান করা। তবে, বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ না করলে শিক্ষকরা হতাশ হবেন এবং এর প্রভাব পড়বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। তাই, এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
Leave a Reply