রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি দায়িত্ব ছাড়লে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা চলছে। যদিও সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকজন প্রবীণ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে চিন্তা করছেন। এমনকি তিনি বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও কিছু সূত্র দাবি করেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সরকারি নথিতে তার স্বাক্ষর না করা এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও বলছে, দায়িত্ব ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি সরে যেতে চান। ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে থাকায় রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রবীণ নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
কুমিল্লা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. মোশাররফ বিএনপির বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে দলের সঙ্গে ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলীয় অবস্থান থেকে সরে যাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তিনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন।
এর আগেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কার্যক্রমে তার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও এর পেছনে রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা এই নেতা বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি শান্ত স্বভাব, গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ছিলেন।
বিএনপির একটি অংশ মনে করে, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল একটি সম্ভাব্য নাম হতে পারেন। তবে তিনি নিজে এমন কোনো পদে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার ভূমিকা দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক বক্তব্য, কৌশল নির্ধারণ এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়াও ভবিষ্যতে তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
এ ছাড়া বিএনপির আরেক প্রবীণ নেতা ড. আবদুল মঈন খান এবং সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বিভিন্ন নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক, তবে এ বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
তবে বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনেকাংশেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
Leave a Reply