মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির জন্য মাঠপর্যায় থেকে শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য মাউশিতে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। তবে এখনও কিছু প্রতিষ্ঠানের তথ্য আসা বাকি রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) শিক্ষাবিষয়ক এক আলাপকালে তিনি বলেন, বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য হাতে পাওয়ার পরই তথ্য যাচাই বা ভ্যালিডেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আনুমানিক তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। ভ্যালিডেশন শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে শিক্ষক বদলির আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরুর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া মাত্রই অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে।
চলতি জুলাই মাস থেকেই আবেদন গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সোহেল বলেন, বিষয়টি মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাউশিতে পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দ্রুত মিলতে হবে। এই দুটি ধাপ যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, বদলি আবেদনও তত দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ২১ জুন মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক বদলির জন্য তথ্য ইনপুট ও যাচাইয়ের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় একটি অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
তবে তথ্য সংগ্রহ চলাকালে সফটওয়্যারের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে সার্ভার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ইনপুট করতে পারেনি এবং তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটি সমাধান হওয়ার পর যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য ইনপুট করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পুনরায় তথ্য ইনপুট করার সুযোগ দেওয়া হয়।
সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময় ছিল ২৫ জুন ২০২৬। উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৫ জুলাই এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
একইভাবে কলেজ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, যাচাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময়ও ২৫ জুন নির্ধারণ করা হয়। এরপর আঞ্চলিক উপ-পরিচালক (কলেজ) পর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের সময়সীমা ছিল ৫ জুলাই এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের জন্য শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ জুলাই ২০২৬।
বর্তমানে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের তথ্য মাউশিতে জমা পড়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব তথ্য হাতে পাওয়ার পর ভ্যালিডেশন সম্পন্ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বহু প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি কার্যক্রমের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
Leave a Reply