প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের বিষয়ে যে মামলাটি চলমান ছিল, সেখানে সরকার গত পরশুদিন তিন মাসের একটি স্টে অর্ডার পেয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল স্টে অর্ডারটি ভ্যাকেট করার উদ্যোগ নেবেন। আদালত থেকে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেলেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং সেটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের মামলায় গত পরশুদিন স্টে অর্ডার পেয়েছি তিন মাসের। সেটাও আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব ভ্যাকেট করে দেবেন। আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে। আদালত থেকে ক্লিয়ারেন্সটা পেলেই হবে।”
এ সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কোনো না কোনো বিষয় হলেই আদালতে মামলা করা হয়, যার কারণে সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তবে আদালত বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “কিছু হলেই আসলে আদালতে চলে যায় এবং আমাদের কাজে বিঘ্ন ঘটে। আদালত এটা বুঝতে পেরেছেন এবং যথেষ্ট সদয় হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার রায় হাতে পাওয়ার পরপরই তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আদালতের রায় সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে ফোনে অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই যখন আমাকে অ্যাটর্নি জেনারেল ফোন করে জানালেন, তখনই আমি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা এই নিয়োগটি কতটা দ্রুত করতে পারি।”
তিনি জানান, পিএসসি চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন পাঠানোর অনুরোধ জানান। এরপর তিনি শিক্ষা সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা সচিবকে দ্রুত রিকুইজিশন প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, “উনি তাৎক্ষণিকভাবে বলেছেন, আপনি রিকুইজিশনগুলো পাঠান। আজকেই আমি প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে আমাদের শিক্ষা সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি, আপনারা রিকুইজিশন তৈরি করবেন। আজ বিকেলের মধ্যেই আমরা পিএসসিতে এই রিকুইজিশনগুলো পাঠাব, যাতে তারা বিশেষ ব্যবস্থায় এই নিয়োগগুলো দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কলেজ শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে পিএসসি চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পিএসসি চেয়ারম্যান আমাকে আশ্বস্ত করেছেন বিশেষ ব্যবস্থায় কলেজ শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটেরও ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। আমরা বলেছি, আমাদের যে অংশটুকু করার প্রয়োজন, সেটি আমরা দ্রুত সম্পন্ন করে দেব। এরপর আপনারা যেন অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা নেন।”
Leave a Reply