বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার বিল অনলাইনে দাখিলের বিষয়ে আবারও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল সাবমিট না হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ০৭ মে ২০২৬ তারিখে জারিকৃত পত্র নং- ৩৭.০২.০০০০.০০০.১১৩.৩৯.০০০৬.২০.১৩ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ঈদ-উল-আযহা-২০২৬ (মে-২০২৬) এর উৎসব ভাতা বিল অনলাইনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৩ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যেই সকল এমপিওভুক্ত জনবলের উৎসব ভাতার বিল অনলাইনে সাবমিট করতে হবে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান বিল দাখিল করতে ব্যর্থ হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে। ফলে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত ইএমআইএস সিস্টেমে প্রবেশ করে বিল সাবমিটের কাজ সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, বিল সাবমিট অপশন চালু ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিল দাখিল করতে পারেনি। বিশেষ করে মে মাসের বেতন ও ঈদ উৎসব ভাতার বিল একসঙ্গে প্রক্রিয়াকরণ হওয়ায় সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও ইএমআইএস পোর্টালে ধীরগতি ও লগইন সমস্যার কারণে তারা উদ্বেগে রয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহার আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিল প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করতে চায়। এজন্য মাউশি বিল সাবমিট কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি না করার নির্দেশনা দিয়েছে।
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল সাবমিট সম্পন্ন হলে দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠানো হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অর্থ ছাড় করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মে মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা একসঙ্গে পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনেকেই সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও বিল দাখিল করতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি অধিদপ্তর।

Leave a Reply