আর কিছুদিন পরই মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। চলতি বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহেই ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা থাকায় এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগেই মে মাসের বেতন হাতে পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আর এই উৎকন্ঠা আরও দিন দিন আশংকায় পরিণত হতে যাচ্ছে মাউশির আচরণের কারণে। মাউশির পক্ষ হতে ইতোমধ্যে মে মাসের বেতন বিল সাবমিটের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিষয়টি নোটিশ আকারে প্রচার করা হলেও বাস্তবতা বলছে কিন্তু ভিন্ন কথা। বাস্তবতা হলো মাউশি কিন্তু এখন অবধি মে মাসের বিল সাবমিট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি বা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। যা গাফিলতি বলেন আর ত্রুটি বলেন তার একমাত্র দাবীদার মাউশি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৩ মে পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন বিল অনলাইনে সাবমিট করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা বিল দাখিল করলে তা যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বেতন ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এই বিষয় নিয়ে গতকাল ১১ তারিখে মাউশির ইআইএমসেলের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছিল যে, ১২ তারিখ হতে বিল সাবমিট করা যাবে। সেই মতে শিক্ষকরা আজ চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু সেই সমস্যা দুর হয় নাই আজ বিকাল ৪.২২ মিনিটে মাউশির ইআইএমসেলে যোগাযোগ করলে ইআইএমসেলের প্রোগামার জনাব মোঃ জহির উদ্দিন সাহেব জানান যে, সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে, তাই বোনাস সাবমিট অপশন চালু করা হয়েছে। এটা একটা পর্যায়ে গেলে আগামীকাল বা পড়শু হতে মে মাসের বেতন সাবমিট অপশন চালু করা হবে। এই হলো মাউশির বয়ান এখন আপনারা আশা করি বুঝতে পেরেছেন ঈদের পূর্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মে মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু।
এর পূর্বে মাউশি হতে জানানো হয়েছিল যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা এলে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেলে ঈদের আগেই শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন ছাড় করা হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের বিশেষ নির্দেশনা না এলে ঈদের আগে চলতি মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমানে মাউশির যে, অবস্থান ও কার্যক্রম তাতে বোঝা যাচ্ছে যে, তারা যে কোন মুল্যে তাদের পূর্বের অবস্থান হতে ফিরে আসতে চাইছেন। হয়ত এখানে তাদের কোন দোষ নাই। তাদের নীরবে বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ তারা তো পূর্বেই বলেছিল যে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা প্রয়োজন তবেই কেবল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের মে মাসের বেতন ঈদের পূর্বে পেতে পারেন।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলতি মাসের বেতন আগাম পান না। তবে ঈদ বা বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক সময় ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিশেষ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ঈদের আগে মে মাসের বেতন দিতে হলে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীরও সম্মতি লাগবে। এই দুই পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া চলতি মাসের বেতন আগাম দেওয়ার সুযোগ নেই।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, শুধুমাত্র মাউশির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠালেই হবে না। এ বিষয়ে মূল উদ্যোগ নিতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে। তিনি যদি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেন, তাহলে মাউশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং দ্রুত বেতন ছাড়ের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় বিষয়টি সত্যি সত্যি সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বেতন বিল দাখিল করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিল যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেয়। সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার টাকা ব্যাংকে পাঠানো হয়।
এদিকে সরকার ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। অনলাইনে বিল দাখিল ও অনুমোদনের এই পদ্ধতির ফলে পুরো কার্যক্রম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালুর কারণে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমেছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরাও দ্রুত সেবা পাচ্ছেন।
Leave a Reply