জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল আগামী ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের ১১তম সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। একইসঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল কতটি সংরক্ষিত আসন পাবে, সেই তথ্যও সভায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৩৬টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১৩টি আসন এবং একটি আসন গেছে স্বতন্ত্রদের কাছে। এছাড়া ছয়জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য একজোট হয়েছেন বলে জানান তিনি। বিএনপির সঙ্গে আরও তিনটি রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং জামায়াতের সঙ্গে রয়েছে দুটি দল। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রুমিন ফারহানা কোনো জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটি আসনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন গত দুই দিন সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। এ সময় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার মতো কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কমিশন স্পষ্টভাবে মনে করে, এই নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আজকের সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। এই সভা সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়নি।
Leave a Reply