দেশের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সরকার। এ বাজেটের আওতায় ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ’ খাত থেকে দেশের মোট ৬৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনে ব্যয় ও বিতরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করা হয়েছে। তবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ বিধি’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি সরকারিকরণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অর্থ বিভাগ থেকে বাজেট বিভাজনের অনুমোদন এবং মাউশির সম্মতি ছাড়া কোনো ধরনের বকেয়া অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। অর্থাৎ, দ্বৈত অনুমোদন ছাড়া এ সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম সম্পাদন নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়াও, নির্দিষ্ট কিছু খাতে—যেমন প্রশাসনিক ব্যয়, ভ্রমণ খরচ, মেরামত কাজ, সরঞ্জাম ক্রয়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের আওতায়—২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বকেয়া বিল পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে করে পূর্ববর্তী বছরের আর্থিক দায়গুলো ধাপে ধাপে সমন্বয় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক ও কর্মচারীদের ছুটি সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শ্রান্তিবিনোদন ছুটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজেই মঞ্জুর করতে পারবেন, তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ছুটি অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে মাউশির হাতে। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ছুটি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সবশেষে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সকল বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা ব্যত্যয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নির্বাহকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে বলে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি, অব্যবহৃত অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে।
তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Leave a Reply