বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ আজ রোববার (১৫ মার্চ) থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা আপাতত পিছিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সংশোধনী এখনো জারি না হওয়ায় নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ থেকে আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার এবং সহকারী সুপার পদে নিয়োগের জন্য একটি সংশোধিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে সংশোধনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই সংশোধিত নীতিমালা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি না হওয়ায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই আটকে রয়েছে।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের আবেদনে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশ করতে পারেনি। এ কারণে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামীকাল সোমবারের মধ্যে যদি সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়, তাহলে একই দিন থেকেই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং আবেদন গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে সোমবারের মধ্যেও যদি নীতিমালা প্রকাশ না হয়, তাহলে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম ঈদের পর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে জারি করার জন্য তাদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ায় আগের আবেদনকারীদের বিষয়েও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। জানা গেছে, বাতিল হওয়া ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮৬ হাজারের বেশি শিক্ষক আবেদন করেছিলেন এবং প্রত্যেকে আবেদন ফি হিসেবে ৩৫০ টাকা জমা দিয়েছিলেন। ফলে মোট বিপুল পরিমাণ অর্থ আবেদন ফি হিসেবে জমা হয়েছিল। এখন সেই অর্থ আবেদনকারীদের কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কীভাবে আবেদন ফি ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য একটি পদ্ধতি হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটর বিকাশের মাধ্যমে আবেদনকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
Leave a Reply