বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনী উপলক্ষে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সভায় সফটওয়্যারটি পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক মনে হলে সেটির চূড়ান্ত অনুমোদনও দেওয়া হতে পারে, যা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
রবিবার (১৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই ডেমো প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সভাপতিত্ব করবেন। পাশাপাশি সভায় উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় সফটওয়্যারের বিভিন্ন ফিচার, কার্যপদ্ধতি এবং ব্যবহারিক দিকগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারটি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিটক। ইতোমধ্যে সফটওয়্যারটির একটি পরীক্ষামূলক বা ট্রায়াল সংস্করণ চালু করে তা পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই ট্রায়ালে সফটওয়্যারটির কার্যক্রম মোটামুটি সন্তোষজনক বলে মনে হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মকর্তা বলেন, “বদলি সফটওয়্যারটি ইতোমধ্যে ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এর কার্যকারিতা ভালো পাওয়া গেছে। আগামীকালের সভায় সেটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এবং কোনো বড় সমস্যা না দেখা যায়, তাহলে সভাতেই সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যার নাম ছিল বদলির সুযোগ না থাকা। সরকারি শিক্ষকদের মতো তারা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারতেন না। ফলে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নানা সমস্যার মুখে পড়লেও তাদের একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি চালিয়ে যেতে হতো।
তবে কিছুটা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষকরা আগে এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির সময় ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছিলেন। কিন্তু চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সুযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে নতুন করে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পথও বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন ও দাবি উত্থাপন করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি পৃথক বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়।
তবে নীতিমালা প্রণয়ন হলেও বাস্তবে বদলি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শিক্ষকদের একাংশের করা রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া এবং নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকে।
পরবর্তীতে বদলি নীতিমালায় সংশোধন আনা হলেও সফটওয়্যার তৈরি না হওয়ায় কার্যক্রমটি চালু করা যায়নি। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকালের সভায় সফটওয়্যারটি চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়া হলে খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে।
Leave a Reply