এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা মনে করেন, এই শর্ত বাতিল বা কমিয়ে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের পক্ষে মো. আবু নাছের সুমন, মো. তোফায়েল আহমেদ, মো. আসিফ আলী ও মো. নজরুল ইসলাম মৃধা স্মারকলিপিটি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা জারি করেছে। এর ফলে চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যারা ১৮ বছরের কম অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেদন করেছেন, তারা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
আবেদনকারীরা জানান, অতীতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই উভয় পদের জন্য সমানভাবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়নি। বরং দুই পদের মধ্যে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পার্থক্য রাখা হতো। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অনেক যোগ্য, মেধাবী ও তরুণ শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের মতে, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। সে হিসেবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা পূরণ করতে একজন শিক্ষকের বয়স প্রায় ৫৩ বছর হয়ে যায়, যা অবসরের সময়সীমার কাছাকাছি। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণ নেতৃত্বের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ হলেও দক্ষ ও উদ্যমী তরুণ শিক্ষকদের নেতৃত্বে আনা জরুরি। তাই প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
Leave a Reply