শিক্ষামন্ত্রী A. N. M. Ehsanul Haque Milon জানিয়েছেন, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য যে আইন বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, সেটি সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই SSC Examination Bangladesh ও HSC Examination Bangladesh–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে আইনটি কার্যকর রয়েছে সেটি ১৯৮০ সালে প্রণীত হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই কাঠামোর মধ্যে পরীক্ষাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতা, প্রযুক্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আইনটি সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি পাবলিক পরীক্ষার আইন সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে আইনটি রয়েছে সেটি ১৯৮০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই সময়ের শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার ধরন ও সামাজিক বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনটিকে যুগোপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, চলমান সংসদ অধিবেশনেই এই আইন সংশোধন করা সম্ভব হবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন আইন কার্যকর করা সম্ভব নয়। কারণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। ফলে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বিদ্যমান আইনের আওতায় পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে এবং পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে আইনের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধসহ পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সেটি অনেক পুরোনো কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অতীতে এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে সফলতা পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা সামনে এসেছে। তাই আইনটির দুর্বলতা দূর করে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এই পাবলিক পরীক্ষা আইনটি ১৯৮০ সালে প্রণয়ন করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে আইনটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং পরীক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে আইনটি নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় অনেক সাংবাদিক একসঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং তারা মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়ে। তাই পরীক্ষার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যেন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশ ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে যারা শিক্ষা খাতে বাস্তব অবদান রেখেছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়েছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুল ও বিকৃত বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এ ধরনের তথ্য অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রকৃত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের রাখা উচিত যারা শিক্ষা বিষয়ে সচেতন, অভিজ্ঞ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতার মান কমিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিদের মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামো শক্তিশালী করার চিন্তা করছে সরকার।
Leave a Reply