শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যে ধরনের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার অনেকটাই অসম্পূর্ণ ও বিকৃত।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার প্রদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী তার অবস্থান পরিষ্কার করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো চিন্তা নেই। বরং শিক্ষাক্ষেত্রে যাদের বাস্তব অবদান রয়েছে এবং যারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমন ব্যক্তিদের নিয়েই কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠনের যে খবর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছে, তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা এবং সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কচুয়া উপজেলাকে শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তৈরি করা গেলে তা পরে দেশের অন্যান্য জায়গায়ও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে পুরোনো পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থী, ইনভিজিলেটর এবং পর্যবেক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ হয়।
সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো বক্তব্য যেন খণ্ডিতভাবে প্রকাশ না করা হয়। বরং প্রকৃত তথ্য ও বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply