বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে সভাপতি হতে ন্যূনতম স্নাতক পাসের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা বাতিল করার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ সংশ্লিষ্ট এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় স্কুল ও স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটি গঠন, কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক। আলোচনায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের প্রবিধানমালা বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রির যে শর্ত বর্তমানে রয়েছে, তা বাতিল করে আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সরকার ভাবছে। প্রবিধানমালা সংশোধনের মাধ্যমে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হলে ভবিষ্যতে সভাপতি হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক থাকবে না। অর্থাৎ ২০২৪ সালের আগে যেভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়াই সভাপতি নির্বাচনের সুযোগ ছিল, সেই ব্যবস্থাই আবার চালু হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হতে পারে। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতাও আর রাখা হচ্ছে না। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে। পরে সেই তালিকা থেকে একজনকে কমিটির সভাপতি হিসেবে চূড়ান্ত করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।
Leave a Reply