এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা অনেকটা নিয়ে স্বস্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় উৎসব ভাতার সরকারি অংশ ছাড়ের প্রায় সকল কাজই শেষ করে ফেলেছে। ফলে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের উৎসব ভাতা নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল ও কলেজ—পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতার (লট-১) সরকারি অংশ অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এই অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে।
এখন প্রশ্ন হলো ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের নিজ নিজ একাউন্টে প্রবেশ করার মেসেজে পাবে কখন। এই বিষয় নিয়ে মাউশির ইআইএমএস সেলের প্রোগামার জনাব মোঃ জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ নাগাদ এমপিওভুক্ত অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের উৎসব ভাতা নিজ একাউন্টে পৌছানোর মেসেজ পেয়ে যাবেন আর যদি কোন কারণে সেটির ব্যাতিক্রম ঘটে তাহলে আগামী রোববারের মধ্যে পেয়ে যাবেন।
তবে এখানে উল্লেখ্য যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০% বৃদ্ধির যে ঘোষণার কথা শোন গিয়েছিল এখনও এ বিষয়ে চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় নি। বিধায় এটা নিশ্চিত যে এই ঈদের পূর্বে ৬০% উৎসব ভাতা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ পাচ্ছেন না। যার ফলে মাউশি ও শিক্ষা প্রশাসনের সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন যে, তাদের কাজ কম হলো। কারণ ৫০% এর স্থলে ৬০% এই কাজটি মাউশির জন্য অনেক বড় বোঝা হয়ে যেত বিধায় তারা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
এর আগে, বেতন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ৪ মার্চ এর মধ্যে অনলাইনে উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হয় এবং কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও অর্থ ইএফটিতে না পাঠানো হয়, তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিল করা তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতি মাসে সময়মতো অনলাইনে বিল সাবমিট না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও অর্থ ইএফটিতে পাঠানো হবে না। এছাড়া, সাবমিট করা বিলের কপি ডাউনলোড করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির স্বাক্ষরসহ সংরক্ষণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ ইএফটি পদ্ধতিতে প্রদান করা হচ্ছে। জুলাই মাস পর্যন্ত সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে। তবে আগস্ট মাস থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাসভিত্তিক এমপিওভুক্ত জনবলের বিল অনলাইনে সাবমিট করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তাদের প্রতিষ্ঠানের এমপিও সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যবহৃত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে বিল দাখিল করতে হবে। সংযুক্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য পৃথকভাবে এমপিওর অর্থ সঠিকভাবে নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করা বাধ্যতামূলক।
Leave a Reply