বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখনও ছাড় না হওয়ায় দেশে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। গত মঙ্গলবার তাদের বেতনের অনুমোদন দেওয়া হলেও অর্থ ছাড় না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার অবধি শিক্ষক কর্মচারীদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী ঈদ সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারছেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন অনুমোদন করা হয় এবং পরে সেই তথ্য আইবাস (IBAS) সিস্টেমে পাঠানো হয়। কিন্তু আজ রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আইবাস থেকে বেতনের অর্থ ছাড় করা হয়নি। ফলে অনুদান বিতরণকারী ব্যাংকগুলোতেও টাকা পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর কারণেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও ফেব্রুয়ারির বেতন হাতে পাননি।
বিষয়টি নিয়ে মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, আইবাস থেকে এখনো বেতনের তথ্য ছাড় হয়নি। তবে দ্রুত এই জটিলতা দূর করার চেষ্টা চলছে এবং আজকের মধ্যেই আইবাস থেকে বেতন ছাড়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদের আগে বেতন দেরি হওয়ায় শিক্ষকরা কেনাকাটা করতে পারছেন না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষকদের এই পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত বা টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বেতন ছাড়ে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সেই কথা মতো আজ রবিবার দুপুর ১২টার পর হতে এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের ব্যাংক একাউন্টে তাদের ন্যর্য্য পাওনা আসা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষক কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে আজ এবং আগামীকালের মধ্যে তাদের বেতনের টাকা পৌছে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে বেতন প্রদানের জন্য প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বিল দাখিল করেন। এরপর সেই বিল যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা প্রশাসন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে প্রদানের জন্য সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে এখন অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে বেতন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
Leave a Reply