এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত এ প্রস্তাব আজ বৃহস্পতিবার অথবা সর্বোচ্চ আগামী রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেলে বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই উৎসব ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যমান ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ যোগ করা হবে। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বেড়ে মূল বেতনের ৬০ শতাংশে উন্নীত হবে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটের সক্ষমতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
আরও জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের বাজেট পরিস্থিতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে প্রস্তাবটি একবারে বাস্তবায়ন করা হবে, নাকি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে—সেই বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের মতো শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষক সংগঠনগুলো এ দাবিতে আন্দোলন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সেই ধারাবাহিক দাবির প্রেক্ষাপটে আপাতত উৎসব ভাতা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Leave a Reply