বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে নির্ধারিত ১২ ও ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল থাকলেও, এ শর্তে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী বা জুনিয়র শিক্ষকরা বেশি আবেদন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জুনিয়র শিক্ষকদের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ শিক্ষকরা নিয়োগ পেলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বুধবার (০৪ মার্চ) জানিয়েছে, বর্তমান অভিজ্ঞতার শর্ত অনুযায়ী তরুণ শিক্ষকরা ব্যাপক হারে আবেদন করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে যেতে পারেন—এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স ও অভিজ্ঞতায় সিনিয়র শিক্ষকদের জুনিয়রদের অধীনে কাজ করতে হলে মানসিক অস্বস্তি ও পেশাগত জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, এ ধরনের সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে শীর্ষ দুই পদ—অধ্যক্ষ/প্রধান এবং উপাধ্যক্ষ/সহকারী প্রধান—এর ক্ষেত্রে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বছর বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
Leave a Reply