বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির জন্য তৈরি করা নতুন সফটওয়্যার এখন চূড়ান্ত যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমে সফটওয়্যারটির ডেমো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যাচাই করবে। তাদের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে পরে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, সফটওয়্যারটির প্রাথমিক কার্যকারিতা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে যেহেতু বিষয়টি বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষকের বদলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই ব্যাপক পরিসরে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে মাউশির অধীন এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল থেকে শিক্ষকদের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর সফটওয়্যারটির ডেটা ইনপুট ও আউটপুট পরীক্ষা করে ডেমো প্রদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, সফটওয়্যারটি প্রস্তুত থাকলেও শিক্ষকদের বিপুল তথ্যভান্ডার সঠিকভাবে সংযোজন ও যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক শিক্ষকের ইনডেক্স, কর্মস্থল, বিষয়ভিত্তিক পদ, শূন্যপদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি যাচাই প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধাপ সম্পন্ন হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডেমো প্রদর্শন করা হবে এবং ওই সভাতেই সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এনটিআরসিএ-এর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে সরাসরি বদলির সুযোগ ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেই সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একটি বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। তবে শিক্ষকদের একাংশের রিট আবেদন, সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্ব এবং নীতিমালা সংশোধনসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেও সফটওয়্যার চূড়ান্ত না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
Leave a Reply