সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাওয়া মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা এখন একটি বড় প্রশাসনিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সংশোধিত এমপিও নীতিমালা এখনো জারি না হওয়ায় তারা এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনই করতে পারছেন না। ফলে যোগদানের এক মাস পার হলেও বেতনহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে শত শত শিক্ষককে। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর, অথচ বেতন ও ঈদ বোনাস নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাওয়ার পর গত জানুয়ারি মাসে তারা নিজ নিজ মাদ্রাসায় যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পরও এমপিওভুক্তি না হওয়ায় কোনো বেতন পাননি। টানা এক মাস ধরে বেতন ছাড়া ক্লাস নেওয়া, প্রশাসনিক কাজ সামলানো এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান—সবই করতে হচ্ছে দায়িত্ববোধ থেকে। এতে মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ১০ম গ্রেড উল্লেখ করে পাঠানো একাধিক এমপিও ফাইল বাতিল (রিজেক্ট) করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রোগ্রামার পর্যায় থেকেই এসব ফাইল ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মাদ্রাসা পর্যায়ের কৃষি বিষয়ের প্রায় ৫০০ শিক্ষক এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। তাদের দাবি, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে কৃষি সহকারী শিক্ষক পদটি ১০ম গ্রেডভুক্ত হলেও মাদ্রাসায় একই পদে ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে—যা সুস্পষ্ট বৈষম্য। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রতিষ্ঠানভেদে গ্রেড কমিয়ে দেওয়া পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে এমপিও ফাইল পুনরায় পাঠানোর সময়সীমা প্রতি মাসের ১ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত। কিন্তু সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় নতুন করে ফাইল পাঠানোর সুযোগও কার্যত বন্ধ। ফলে মার্চ মাসেও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা বেতন ও ঈদ বোনাস—দুটোই হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আব্দুল করিম নামে এক শিক্ষক জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে আছেন। সংসার চালানো, বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ—সবকিছুই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। অপরদিকে মো. মাসুদ নামে আরেক শিক্ষক বলেন, পরিবারের সবাই ঈদের প্রস্তুতির কথা বলছে, কিন্তু বেতন না পাওয়ার শঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সময়মতো ফাইল পাঠাতে না পারলে ঈদের আগেই বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ-এর সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের সংশোধিত এমপিও নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক বিলম্ব, গ্রেড বৈষম্য এবং নীতিমালাগত সংশোধনের অপেক্ষায় প্রায় ৫০০ কৃষি শিক্ষক আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি না হলে তাদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়।
Leave a Reply