বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা খুব শিগগিরই কেটে যেতে পারে—এমন আভাস মিলেছে মাউশি সূত্রে। এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব দ্রুতই উৎসব ভাতা প্রদানের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। ফলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তির আশা জাগছে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কবে হাতে পাওয়া যাবে ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা? তবে তারও আগে যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি, সেটি হলো উৎসব ভাতার বিল ইএফটি (EFT) ড্যাশবোর্ডে সাবমিট করার তারিখ। কারণ ইএফটির ড্যাশবোর্ডে বিল সাবমিট না হলে কোনোভাবেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য ভাতা পাবেন না। সে হিসেবে প্রথম ধাপ হচ্ছে মাউশির পক্ষ থেকে ইএফটি সাবমিশনের অপশন চালু করা। জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত সেই অপশন চালু হয়নি, তবে তা খুব দ্রুত চালু হতে যাচ্ছে।
মাউশির ইএমআইএস সেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রোগামার মোঃ জহির উদ্দিন সাহেরেবর সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, আগামী সোমবার থেকে ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতার বিল ইএফটির ড্যাশবোর্ডে সাবমিট করা যাবে। এরপর বিল যাচাই-বাছাই শেষে তা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন সম্পন্ন হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আগামী সপ্তাহের ১০ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অথবা তার কিছু পরেই ভাতা প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের ঈদুল ফিতরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। আগে শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়েই ২৫ শতাংশ করে উৎসব ভাতা পেতেন। গত ঈদুল আজহা থেকে উভয় পক্ষকেই ৫০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়া শুরু হয়। যদিও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্টরা তখন ভাষাগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, প্রায় ১০ মাস পার হলেও সেই জটিলতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে কর্মচারীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা—কমপক্ষে ঘোষিত ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা যেন সময়মতো এবং কোনো জটিলতা ছাড়াই তাদের হাতে পৌঁছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০০ শতাংশ করা হয়েছে—এমন যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গুজব ছাড়া আর কিছু নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখে অযথা আশাবাদী হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, চলতি ঈদুল ফিতরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০০ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর উৎসব ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে—এমন আভাস ইতিবাচক। এখন কেবল সময়মতো ইএফটি সাবমিশন ও দ্রুত অনুমোদনের মধ্য দিয়েই বাস্তবায়নের অপেক্ষা। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং উৎসবের আগে স্বস্তির একটি বড় বার্তা।
Leave a Reply