এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে আবারও জটিলতা তৈরি হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতনের বিল অনলাইনে সাবমিট করেননি। ফলে ইতোমধ্যে বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ায় এসব শিক্ষক ঈদের আগেই বেতন পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে; পরে আর নতুন করে নাম যুক্ত করার সুযোগ থাকে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর–এর ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, বহু শিক্ষক ধীরগতিতে বিল সাবমিট করছেন। সময়মতো আবেদন করলে যেমন শিক্ষকরা দ্রুত বেতন পেতেন, তেমনি প্রশাসনিক জটিলতাও কমে আসত। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের বেতন প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অধিদপ্তর থেকে আগেই চিঠি দিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিল সাবমিট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এখন বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং মাসের বেতন প্রাপ্তির যে অবস্থা তাতে করে যে সকল প্রতিষ্ঠান গত ২৪ তারিখের মধ্যে বিল সাবমিট করেছেন। সেই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা আগামী ৫ অথবা ৮ মার্চের মধ্যে তাদের বেতনের টাকা স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন বলে মাউশি সুত্রে জানানো হয়েছে। আর যে সকল প্রতিষ্ঠান বিল সাবমিট করতে ব্যর্থ হয়েছেন সেই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীগণ ঈদুল ফিতরের পূর্বে আর ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন পাবেন না।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিল করা তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতি মাসে সময়মতো অনলাইনে বিল সাবমিট না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর অর্থ ইএফটিতে পাঠানো হবে না। এছাড়া, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সাবমিট করা বিলের কপি ডাউনলোড করে তাতে নিজের ও সভাপতির স্বাক্ষরসহ সংরক্ষণ করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। জুলাই পর্যন্ত আগের প্রক্রিয়ায় অর্থ পাঠানো হলেও আগস্ট থেকে নতুন নিয়মে মাসভিত্তিক বিল সাবমিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তার নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করে পৃথকভাবে বিল দাখিল করতে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রেরণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলেও সময়মতো তথ্য আপডেট ও বিল সাবমিট না করলে শিক্ষকরা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আরও সচেতন ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি এড়ানো যায়।
Leave a Reply