বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনটিআরসিএ-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামী রবিবার সকাল ১০টায় এনটিআরসিএ কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বৈঠকে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম, চলমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এ বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ফলে আলোচনাটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রীকে বিশেষভাবে চারটি বিষয়ে অবহিত করা হতে পারে—
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি হবে একটি সমন্বয়মূলক বৈঠক, যেখানে নীতিগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে ২০০৫ সালে “বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫” (২০০৫ সনের ১নং আইন) এর মাধ্যমে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের ১০নং ধারায় শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংস্থাটিকে।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এনটিআরসিএকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলের শূন্য পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ সুপারিশের পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আইনের ২১ ধারার আলোকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণের বিধিমালা প্রণয়ন করা হয় এবং সেই অনুযায়ী নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক বেসরকারি শিক্ষা খাতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত, স্বচ্ছ ও নীতিনির্ভর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ ও পুরোনো নিবন্ধনধারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তা নিরসনে এ বৈঠক থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
Leave a Reply