মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মাধ্যমিক স্তরের নবীন শিক্ষকদের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী বুনিয়াদি (বেসিক) প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক আদেশে জানানো হয়, শ্রেণিকক্ষের আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণ-পদ্ধতি দক্ষভাবে প্রয়োগে সক্ষম করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদেশে স্বাক্ষর করেন মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় পরিচালিত Learning Acceleration in Secondary Education (LEaSE) প্রকল্পের আওতায়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। কর্মসূচিটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা Sustainable Development Goals–এর এসডিজি-৪ (গুণগত শিক্ষা) অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
আদেশ অনুযায়ী, ৪০ বছরের কম বয়সী নবীন মাধ্যমিক শিক্ষকরা এই প্রশিক্ষণের আওতাভুক্ত। দেশব্যাপী ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মাধ্যমে ব্যাচভিত্তিকভাবে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি নিয়মিত ও একটি পাইলট ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রধান মনোনীত শিক্ষকদের ছাড়পত্র দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন এবং কিছু শিক্ষকও অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ প্রেক্ষাপটে মাউশি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে—অনিবার্য কারণ ব্যতীত মনোনীত শিক্ষকদের ৫৬ দিনের এই প্রশিক্ষণে বাধ্যতামূলকভাবে অংশ নিতে হবে। মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৫৬ দিনের এ বেসিক প্রশিক্ষণ কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং হাতে-কলমে অনুশীলনভিত্তিক। সম্ভাব্য প্রশিক্ষণ উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এর মাধ্যমে শিক্ষকরা আধুনিক শিক্ষাতত্ত্ব, ব্লুমস ট্যাক্সোনমি, সমালোচনামূলক চিন্তন দক্ষতা বিকাশ, সমস্যা-ভিত্তিক শিক্ষণ (Problem-Based Learning) প্রভৃতি কৌশল বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
বর্তমান সময়ে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং বহুমাত্রিক সামাজিক চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা-ভিত্তিক, বিশ্লেষণধর্মী ও সৃজনশীল শিক্ষণ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
এই ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের—
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সহকর্মীদের মধ্যেও জ্ঞান ও দক্ষতা ছড়িয়ে দিতে পারবেন, যা একটি টেকসই পেশাগত উন্নয়ন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, মাধ্যমিক স্তরের নবীন শিক্ষকদের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী বেসিক প্রশিক্ষণ শুধু একটি প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়; এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও গুণগত মানসম্পন্ন করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
Leave a Reply