শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত জটিলতা দূর করতে সরকার বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-কে একীভূত করে এক ছাতার নিচে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শিক্ষা একটি ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রক্রিয়া হলেও অতীতে দুটি মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কাজ করায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয় এবং সেখানে ড. মিলনকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বলেন, অতীতে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী স্তর পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা ছিল। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের বিভাজনের কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার একীভূত কাঠামোর মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুই মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করায় ফাইল নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ড. মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যৌথভাবে তদারকি করায় শিক্ষা প্রশাসনে সমন্বয় ও গতিশীলতা বাড়বে। একীভূত এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা ও সমন্বয়হীনতা দূর হবে এবং নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply