বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধানসহ বিভিন্ন শীর্ষ পদে নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া জোরেশোরে চলছে। ইতোমধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী এসব পদে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, তবে সবাই ফি পরিশোধ না করায় প্রকৃত বৈধ আবেদনের সংখ্যা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। আবেদনের সময় বাড়ানো হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সময়সীমা রয়েছে; এ সময়ের মধ্যে মোট আবেদন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-এর আওতায় মোট শূন্যপদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি। এর মধ্যে স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি; উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৫১১টি; উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ ২৫৭টি। পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩,৯২৩টি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩,৮৭২টি শূন্যপদ রয়েছে। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যপদ ৫০৪টি। সব মিলিয়ে এই অধিদপ্তরের অধীনেই সর্বাধিক নিয়োগ হতে যাচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর-এর অধীনে মোট ১৯০টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যক্ষ ১১০টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি পদ শূন্য রয়েছে। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এসব পদে দ্রুত নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর-এর আওতায় মোট শূন্যপদ রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি। কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি; ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি; আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১,০০৪টি পদ খালি রয়েছে।
সব মিলিয়ে তিন অধিদপ্তরে মোট শূন্যপদ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৫৯টি। মাঠপর্যায়ের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে এনটিআরসিএ জানিয়েছে। বিপুলসংখ্যক শূন্যপদের বিপরীতে উচ্চ সংখ্যক আবেদন প্রমাণ করে যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের আগ্রহ তুঙ্গে রয়েছে। এখন সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মোট বৈধ আবেদন ও পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply